1. খেলাধূলা
  2. জাতীয়
  3. প্রচ্ছদ
  4. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বসংবাদ
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ

কানাডার গাড়িতে শুল্ক দ্বিগুণের হুমকি ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক । মিরসরাইনিউজ২৪.কম
অগাস্ট ২৫, ২০২৬ ৩:১২ অপরাহ্ন
Link Copied!

কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার গাড়ি ও ট্রাক এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে।

বিবিসি জানিয়েছে, গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এ ঘোষণা এসেছে।

আলোচনায় ব্যর্থতার জন্য দুই দেশই পরস্পরকে দায়ী করে ‘শেষ মুহূর্তে অযৌক্তিক দাবি তোলার’ অভিযোগ এনেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ হুমকির পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, এমন কিছু যে আসতে পারে, সে ধারণা তাঁর ছিল। কারণ, তাঁর ভাষায়, ট্রাম্প কানাডার গাড়ি শিল্প ‘ধ্বংস করতে চান’।

কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘সঠিক মনোভাব’ নিয়ে আসে, তাহলে কানাডা আবার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, স্থগিত আলোচনা কবে শুরু হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। এর পরপরই দুই দেশের মধ্যে কথার লড়াই শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে শুক্রবার গভীর রাতে বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে যায় কানাডা। ওই সময়সীমার পর কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ছিল।

কানাডার কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে এমন কিছু দাবি তুলেছিল, যা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। এর মধ্যে এমন একটি ধারা ছিল, যার মাধ্যমে কানাডা কোন কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারবে, তা সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন কানাডাই এনেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সোমবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “তারা আরও বেশি চেয়েছিল।”

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে।

সোমবার কানাডার গাড়ি শিল্পের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানোর হুমকি আসে কার্নির ঘোষণার পর। কার্নি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যত পরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে, তার পাল্টায় সমপরিমাণ শুল্ক কানাডাও আরোপ করবে।

শুক্রবারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত কানাডার ব্যবসাগুলোকে সহায়তা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন কার্নি।

ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল কানাডার বাণিজ্যকে বহুমুখী করতে তিনি অবকাঠামো নির্মাণের ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন।

কার্নি কানাডার কোস্ট গার্ডের জন্য কিবেকের একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানায় ছয়টি আইসব্রেকার তৈরিতে ১১ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। এসব দিয়ে কোস্ট গার্ডের পুরনো মাঝারি ও ভারী জাহাজের বহরকে বদলে ফেলা হবে।

কানাডার উত্তরাঞ্চল ও আটলান্টিক উপকূলের জলপথে শীতকালীন নৌপথ চালু রাখতে এসব আইসব্রেকার ব্যবহার করা হবে।

কানাডার গাড়ি উৎপাদন শিল্পের কেন্দ্রস্থল অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্পের হুমকির জবাবে তিনি বলেছেন, “আমার পশ্চাদ্দেশে চুমু দিন।”

ফোর্ড এও বলেন, কানাডার উচিত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের দাম বাড়িয়ে দেওয়া। এ বিষয়ে ‘পাল্টা লড়াই’ করার উপায় বের করতে কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

তাঁর মন্তব্য ট্রাম্পের নজর এড়ায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রুথ সোশাল পোস্টে ফোর্ডের মন্তব্যকে ‘ফাঁপা হুমকি’ বলেছেন। তিনি লিখেছেন, “কেউ যেন এই ভাঁড়দের ‘লাইনে’ নিয়ে আসে, নয়ত কানাডার জন্য পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে!”

দুই দেশের ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আরোপিত শুল্ক এবং এর পাল্টায় ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডার আরোপ করতে যাওয়া শুল্ক—দুই পক্ষের ব্যবসাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহরের পালোমা ক্লোদিংয়ের মালিক মাইক রোচ ও কিম অসগুড বলেন, তাঁদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্যগুলোর একটি—কানাডায় তৈরি বিশেষ নকশার বালিশের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৯০ ডলার হতে পারে।

আপাতত আগের দামই রাখার চেষ্টা করছেন জানিয়ে রোচ বলেন, আশা করছেন ‘শুল্কের সমস্যা’ দ্রুত সমাধান হবে।

তিনি বলেন, “আমরা যদি তিন মাস আগে নোটিস পেতাম, তাহলে বিষয়টি একরকম হতে পারত—যা ধরে পরিকল্পনা করা যেত, সরবরাহকারীদের সঙ্গে কিছু কাজ করা যেত।

“কিন্তু যখন রাতারাতি এমন কিছু ঘটে, তখন আপনার কিছুই করার থাকে না।”

বিবিসি জানিয়েছে, তীব্র হয়ে ওঠা এ বাণিজ্যযুদ্ধ উত্তর আমেরিকার তিন প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্য চুক্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

কানাডা ও মেক্সিকো উভয়ই চায়, ইউএসএমসিএ আরও ১৬ বছরের জন্য বাড়ানো হোক। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বর্তমান কাঠামোতে তারা চুক্তিটি নবায়ন করবে না।

এ চুক্তির আওতায় উত্তর আমেরিকায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য পরিচালিত হয়।

উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ‘ইউএসএমসিএ ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে’ বলে সোমবার সতর্ক করেছেন অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের বিশেষজ্ঞরা।

তাঁদের ভাষ্য, এর ফলে কানাডা মন্দায় পড়ে যাবে এবং দেশটি স্থায়ীভাবে কম প্রবৃদ্ধির পথে চলে যাবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।